২৫ অক্টোবর ২০২৬

নতুন উপজেলা ঘোষণার পর ফটিকছড়িতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ

চট্টগ্রামের বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা ঘোষণার পর সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সদর দপ্তর ভৌগোলিকভাবে মধ্যবর্তী কোনো স্থানে স্থাপনের দাবিতে বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নারায়ণহাটে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দারা।

বিকেল চারটার দিকে গহীরা-হেঁয়াকো আঞ্চলিক মহাসড়কের নারায়ণহাট যাত্রী সাউনির সামনে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও গণশুনানির প্রতিবেদন উপেক্ষা করে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ভুজপুরে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারা নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী কোনো স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

কর্মসূচিতে ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি কামাল উদ্দিন শিকদার, ভুজপুর থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম, যুবদল নেতা আফসার ও শামসুল আলম, ভুজপুর থানা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু তাহের, নারায়ণহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ ফরিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মো. ইব্রাহিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। পরে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে বুধবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এর আগে তিনটি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে স্থানীয় জনমতের ভিত্তিতে সদর দপ্তরের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেওয়া হলেও সেটি উপেক্ষা করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, জনমতকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন