২৫ অক্টোবর ২০২৬

তদন্তে পুলিশ

পটিয়ায় কবরস্থানে পড়ে ছিলেন অজ্ঞাত নারী, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি কবরস্থান থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পৌনে ২টার দিকে প্রায় ২৮ বছর বয়সী ওই নারীকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যাংগার দোকানসংলগ্ন একটি কবরস্থানে ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, নারীর পাশ থেকে একটি বিষের বোতল পাওয়া যাওয়ায় প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল তিনি বিষপান করেছেন। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় বিষয়টি পটিয়া পৌরসভা গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমকে জানানো হয়।

তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় বিষক্রিয়া বা বিষপানের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার মুখ দিয়ে ফেনা ও মানববর্জ্য বের হয়েছে। পাশে বিষের বোতল পাওয়া গেলেও শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ না থাকায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পটিয়া পৌরসভা গাউছিয়া কমিটি মানবিক টিমের সদস্যসচিব মাওলানা মোহাম্মদ ইছহাক বলেন, হাসপাতাল ও পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা পরিচয়হীন ওই নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

পটিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সমীর ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ মুহূর্তে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।’

আরও পড়ুন