২৫ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াত-বিএনপির বলয় ছাড়ার বার্তা, নতুন জোট চায় হেফাজত

কওমি ঘরানার ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোকে জামায়াত ও বিএনপির রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে এসে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে তাদের অবস্থান ও করণীয় বিষয়ে লিখিত মতামতও চাওয়া হয়েছে।

হেফাজত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বর্তমানে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট, বিএনপির রাজনৈতিক বলয় কিংবা স্বতন্ত্র অবস্থানে থাকা কওমি ঘরানার দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনা। নতুন জোটে থাকতে চাইলে বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে বেরিয়ে এসে অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এ কারণেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টিকে জামায়াত ও বিএনপির বলয় ছাড়ার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য প্রকাশ করেন তারা।

হেফাজতের নেতারা জানিয়েছেন, ৩ আগস্টের মধ্যে দলগুলোর লিখিত মতামত পাওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক জোটের কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। এরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে বা একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলো জামায়াত, বিএনপি ও স্বতন্ত্র—এই তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাদের রাজনৈতিক শক্তি ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিভাজন ও পারস্পরিক বিরোধ তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস বলেন, আগে হেফাজতের মধ্যে ঐক্য ছিল। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে এবং কিছু দল বিএনপির রাজনৈতিক বলয়ে চলে যাওয়ায় নিচের সারির নেতাকর্মীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ কারণে হেফাজতের আমির সবাইকে নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে থাকা দলগুলোকে তাদের করণীয় বিষয়ে লিখিত মতামত দিতে বলেছেন।

তিনি জানান, আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে মতামত জমা দেওয়ার পর পরবর্তী বৈঠকে সেসব মতামতের ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

হেফাজতের আরেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, কওমি ঘরানার দলগুলোকে নিয়ে আলাদা একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সামনে আরও কয়েকটি বৈঠক হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর নতুন জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

হেফাজতের নেতাদের ভাষ্য, কওমি ধারার ইসলামপন্থি ভোট ও রাজনৈতিক শক্তিকে এক প্ল্যাটফর্মে আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নতুন জোট গঠিত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সমন্বিতভাবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।

আরও পড়ুন