চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকায় কিশোর নাঈম (১৭) হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাটেরখীল গ্রামের বাসিন্দা মো. নূরুল ইসলাম ওরফে ইরান (৫০)-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন আগে ইয়াবার একটি চালান হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি প্রতিবেশী কিশোর নাঈমকে সন্দেহ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ জুলাই সন্ধ্যায় নাঈমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে গভীর রাতে তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ জুলাই রাতে তার মৃত্যু হয়।
পরদিন ২৫ জুলাই রাতে নাঈমের জানাজা ও দাফন শেষে উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইরানকে খুঁজতে বের হয়। একপর্যায়ে তার বাড়ি থেকে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, ইরানের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগে পুলিশ আগে থেকেই নজরদারি করছিল। তিনি আরও জানান, নাঈম হত্যা মামলায় ইরানকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল। তবে মামলার পরই জনতার গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়।
ওসি বলেন, ‘ঘটনার দুটি দিক- কিশোর হত্যাকাণ্ড এবং গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু- দুটিই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদক কারবার ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া- কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়।’














