১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

জামায়াত জোটে টানাপোড়েন, বিকল্প পথে হাঁটছে এনসিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটে ভাঙনের আভাস আরও স্পষ্ট হচ্ছে। খেলাফত মজলিসের বিদায়ের পর এবার জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে। দলীয় সূত্র বলছে, জুলাইয়ের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা বা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এনসিপি।

দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জোটে থাকার রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির পাশাপাশি কওমি ঘরানার ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, দলটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য একটি শক্তিশালী জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। তাদের মতে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে সেই সুযোগ সীমিত হতে পারে। বরং নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে সেখানে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ইসলামপন্থী দল ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র আওতায় রাজনৈতিক জোট গঠন করে। পরে এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপি যুক্ত হলে সেটি ১১-দলীয় জোটে পরিণত হয়। তবে নির্বাচন শুরুর আগেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট ছাড়ে। এরপর নির্বাচনের পর নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে শরিকদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়তে থাকে।

সম্প্রতি খেলাফত মজলিস জোট ত্যাগ করার পর সেই অস্বস্তি আরও প্রকট হয়েছে। এখন এনসিপিও জামায়াতের সঙ্গে থাকা নাকি নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে অংশ নেওয়া—দুই বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সংস্কার, বিচার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন জোটে এনসিপির ভূমিকা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের একজন সদস্য জানিয়েছেন, কওমি ঘরানার দলগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। জুলাইয়ের কর্মসূচি শেষ হলে দলীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দলের দূরত্ব আরও বেড়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এনসিপি সমঝোতার চেষ্টা করলেও জামায়াত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ফলে দুই দলই আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ উদ্যোগেও এনসিপি আগ্রহ দেখিয়েছে।

তবে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিভিন্ন আলেম ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো সমন্বয় হলে সেটি দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই হবে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জোটের ভেতরে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। এনসিপির সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো কেন্দ্রীয় সমঝোতার সুযোগ সেখানে নেই; প্রয়োজন হলে স্থানীয় পর্যায়েই সমঝোতা হবে।

আরও পড়ুন