১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদাবাজি থেকে রক্তাক্ত সাম্রাজ্য

কে এই ডেভিড ইমন— কীভাবে তার উত্থান?

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ঝিকরগাছার ধুমধুমপুর এলাকা থেকে চট্টগ্রাম ও যশোর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এই ডেভিড ইমনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে— কে এই ডেভিড ইমন, কীভাবে তার উত্থান?

সাধারণ জীবন থেকে অপরাধ জগতে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমনের প্রকৃত নাম মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তবে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর দ্রুত অপরাধ জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

সাজ্জাদ গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে ডেভিড ইমন সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ সদস্যে পরিণত হন। পরে তিনি গ্রুপটির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পান। বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা তাকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

দুবাইয়ে বসেই চাঁদাবাজির অভিযোগ
পুলিশের দাবি, দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে অবস্থান করেও ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন। তার নির্দেশে চাঁদা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার পর আলোচনায়
গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম সামনে আসে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলার আগে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল অফিসে হামলা চালিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। পাশাপাশি নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগও রয়েছে।

ভাইরাল অডিও
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তারা ছুরি বা কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না; তাদের হামলার ধরন চট্টগ্রামের মানুষ জানে। অডিওটির সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে।

যেভাবে গ্রেপ্তার
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধুমধুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। যৌথ অভিযানে ডেভিড ইমনকে আটক করে পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানসহ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নোয়াখালীতে পরিচালিত এক অভিযানে রায়হান অল্পের জন্য পালিয়ে গেলেও তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে থাকা মামলা, অপরাধ কর্মকাণ্ড এবং গ্রেপ্তার অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

আরও পড়ুন