ভারত থেকে দেশে প্রবেশের মাত্র চার দিনের মাথায় আবারও ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। তবে তার আগেই যশোর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে যশোরে অভিযান চালিয়ে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে।
পুলিশ বলছে, তিনি ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং গত দুই বছরে চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নাজিমুল হক বলেন, “সন্ত্রাসী ইমন চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে সে আবার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এরই মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
তিনি আরও জানান, ইমন নিয়মিত ভারত-বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতেন। পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, তার কাছে দেশি ও বিদেশি—দুটি পাসপোর্ট রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড় সাজ্জাদ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন ডেভিড ইমন।
এদিকে বড় সাজ্জাদের আরেক সহযোগী মো. রায়হানকে গ্রেপ্তারে মঙ্গলবার রাতে নোয়াখালীর সেনবাগে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তিনি বাড়ির দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘রায়হানকে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাও রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন। তিনি অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় শুটার ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ওপর ছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর চট্টগ্রামে তার অপরাধচক্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে এ দায়িত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেন।
রায়হানের বিরুদ্ধেও হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে বর্তমানে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। ইমন ও রায়হান দীর্ঘদিন ধরে বড় সাজ্জাদের পক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।














