২৫ অক্টোবর ২০২৬

হত্যাচেষ্টার মামলায় সাংবাদিক কারাগারে

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হত্যা চেষ্টা ও চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. কামরুল ইসলাম নামে এক গণমাধ্যমাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক সায়মা সুলতানা হীমা তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কামরুল ইসলাম একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মিরসরাই উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, করেরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলন, কাঠ পাচার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে কামরুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা ঝিলতলী এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলন ও বিভিন্ন স্থানে তা পরিবহনের অভিযোগও করা হয় তার বিরুদ্ধে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বালু পরিবহনের ক্ষেত্রে ফটিকছড়ির বৈধ বালুমহালের মেমো ব্যবহার করা হতো এবং ওই মেমোতে কামরুল ইসলামের নাম উল্লেখ থাকত। এ নিয়ে করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে দুই বিএনপি কর্মীর ওপর হামলা এবং তাদের কাছ থেকে নগদ ৮৪ হাজার টাকা ও প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয় কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর কামরুল ইসলাম ও আব্বাস নামে এক আহত ব্যক্তি মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে কামরুল ইসলাম ও আব্বাসের স্ত্রী বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন।

জানা গেছে, কামরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় এক ছাত্রদলকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। অন্যদিকে আব্বাসের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কামরুল ইসলাম ও তার দুই ভাই আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার দুই ভাইকে জামিন দিলেও কামরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ বিষয়ে করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সমন্বয়ক ইয়াসিন মিজান বলেন, ঘটনাটি দলীয় কোনো বিষয় নয়। এটি ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা। তারা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নন; আইনে যার অপরাধ প্রমাণিত হবে, তার বিচার চান।

মিরসরাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক ও সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন