৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাধারার প্রতিবেদনের পর মইজ্জ্যারটেকের সেই অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল সিডিএ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক মোড়ে সিডিএ’র জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সম্প্রতি এসব অবৈধ স্থাপনা নিয়ে ‘বাংলাধারা’য় প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ অভিযান চালানো হলো।

রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর সিডিএর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে সিডিএর মইজ্জ্যারটেক প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান, কর্ণফুলী থানা পুলিশ এবং স্পেশাল পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। প্রায় ৪০ জন শ্রমিক ও একটি এস্কেভেটরের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে মইজ্জ্যারটেক মোড়ে আব্দুল মন্নানের দখলে থাকা ওয়েলফুড, এস আলমের চেমন ইস্পাত লিমিটেডের সীমানাপ্রাচীর, কুলিং কর্নার, মুদির দোকান, বিকাশের দোকান, গোডাউন, বেকারি এবং সড়কের ওপর নির্মিত ঝুপড়ি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সিডিএর প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘মইজ্জ্যারটেক মোড়ের জংশনটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হবে।’

বাংলাধারার প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল দখলের চিত্র
এর আগে গত ৩০ জুলাই ‘কর্ণফুলীতে সিডিএ’র ইজারা, পিডিবির ঝুঁকি ও সওজের নীরবতা— ত্রিমুখী ব্যর্থতায় বিপন্ন জনস্বার্থ!’ শিরোনামে ‘বাংলাধারা’য় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে মইজ্জ্যারটেক মোড়ে সিডিএর জমি দখল করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠে আসে। আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে রেস্টুরেন্ট, সুইটস, হার্ডওয়্যারসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগও ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু স্থাপনার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি চলে গেছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া সিডিএর মালিকানাধীন ৩ দশমিক ৭৭ কাঠা জমি ইজারা নেওয়ার পর ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও উঠে আসে।

তখন সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান জানিয়েছিলেন, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এর আগেই আদালতে মামলা হওয়ায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সিডিএর কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সিডিএর অথরাইজড সেকশনের কর্মকর্তা তানজিব হোসেনও জানিয়েছিলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উচ্চ আদালতে মামলা করেন এবং আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে পরবর্তী কার্যক্রম আটকে যায়।

এর আগেও হয়েছে একাধিক উচ্ছেদ
মইজ্জ্যারটেক থেকে পুরাতন ব্রিজঘাট পর্যন্ত সিডিএর জমিতে এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে পুরাতন ব্রিজঘাট এলাকায় প্রায় ২৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সিডিএ।

এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে পুরাতন ব্রিজঘাট, সৈন্যরটেক, খুদ্যেরটেক, আজিমপাড়া ও মইজ্জ্যারটেক এলাকায় দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সময়ে পুরাতন ব্রিজঘাট ও মইজ্জ্যারটেক মোড়ের কালারপোল সড়কে আরও কয়েকশ দোকান উচ্ছেদের খবরও প্রকাশিত হয়।

তবে উচ্ছেদের পরও বিভিন্ন স্থানে নতুন করে স্থাপনা গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুধু উচ্ছেদ নয়, সরকারি জমি যাতে পুনরায় দখল না হয়, সেজন্য কার্যকর নজরদারি ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সিডিএ জানিয়েছে, মইজ্জ্যারটেক জংশনের পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হবে।

আরও পড়ুন