চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক মোড়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে শতাধিক দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
সিডিএর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে সিডিএর মইজ্জ্যারটেক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান, কর্ণফুলী থানা পুলিশ এবং স্পেশাল পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
প্রায় ৪০ জন শ্রমিক ও একটি এস্কেভেটরের সহায়তায় মইজ্জ্যারটেক মোড়ের বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
সিডিএ সূত্র জানায়, দুই দিনের অভিযানে মইজ্জ্যারটেক মোড়ে আব্দুল মন্নানের দখলে থাকা ওয়েলফুড, এস আলমের চেমন ইস্পাত লিমিটেডের সীমানাপ্রাচীর, কুলিং কর্নার, মুদির দোকান, বিকাশের দোকান, গোডাউন ও বেকারিসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া মোড়ের পশ্চিম পাশে আকসা ও আকাশ বিরিয়ানির সামনের অংশ এবং সড়কের দুই পাশে নির্মিত শতাধিক দোকান ও অন্যান্য স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
সিডিএ’র প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হাসান বলেন, মইজ্জ্যারটেক মোড়ের জংশনটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হবে।
বারবার উচ্ছেদ, ফের দখল
কর্ণফুলীর পুরাতন ব্রিজঘাট থেকে মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত সিডিএর জায়গায় এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে পুরাতন ব্রিজঘাট এলাকায় প্রায় ২৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সিডিএ।
এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে পুরাতন ব্রিজঘাট, সৈন্যরটেক, খুদ্যেরটেক, আজিমপাড়া ও মইজ্জ্যারটেক এলাকায় দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সময়ে পুরাতন ব্রিজঘাট ও মইজ্জ্যারটেক মোড়ের কালারপোল সড়কেও আরও তিন শতাধিক দোকান উচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হয়।
তবে একাধিক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও বিভিন্ন স্থানে নতুন করে স্থাপনা গড়ে ওঠায় সিডিএর নজরদারি ও দখল প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না; উচ্ছেদের পর এসব জায়গায় পুনরায় দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।












