১৫ অক্টোবর ২০২৬

‘বালু ভরাটের কাজ করতে চাঁদা দিতে হবে’— স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কায়সারের হুমকি

চাঁদা না দেওয়ায় বালু ভরাটের কাজে হামলা, মামলার জালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

‘চাঁদা না দিলে বালু ভরাটের কাজ করা যাবে না’— এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কায়সার আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালায় তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি দল। এতে দুই ব্যবসায়ী আহত হওয়ার পাশাপাশি একজনের কাছ থেকে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় কায়সার আলমসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আজাদ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে পতেঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে নাম উল্লেখ করা নয়জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও অন্তত ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পতেঙ্গা থানার লালদিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আজাদ ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার জাবেদ বিজয়নগর এলাকার পূর্ব পাশে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাটের একটি ইজারা নেন। কাজ শুরু করার পর থেকেই স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং কাজ বন্ধ করার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর দুপুরে কায়সার আলমের নেতৃত্বাধীন একটি দল বালু ভরাটের কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরদিন ১৩ অক্টোবর দুপুরে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত স্থানে বালু ভরাটের জন্য পাইপ ফিটিং করার সময় দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, লাঠি ও কিরিচ নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীদের একজন লোহার রড দিয়ে আজাদের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেন। এতে তাঁর বাম কানের ওপরের অংশে আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। অন্যদিকে, জাবেদকে কিরিচ দিয়ে কোপ দিলে তাঁর বাম হাঁটুতে আঘাত লাগে। পরে অন্য অভিযুক্তরা তাঁদের লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, মারধরের একপর্যায়ে আজাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁর কাছে থাকা ব্যবসার নগদ সাত লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মো. আলী আকবরের বিরুদ্ধে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৬ জুন চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলু ও সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. জমির উদ্দিন নাহিদের স্বাক্ষরিত আদেশে পতেঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটির তালিকার দুই নম্বরে রয়েছেন মো. কায়সার আলম। তিনি পতেঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. নুরুল আবছারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. কায়সার আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী বলেন, ‘থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে।’ মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন