১৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন ইশরাক

অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে যাচ্ছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে ফেইসবুক পোস্টে এ ঘোষণা দিয়েছেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে।

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার বিকালে নিজের ফেসবুক পেইজে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। একটি ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর এ অভিযান ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরদিন ডিএমপির ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা যেটা দেখেছেন, আমরাও দেখেছি। স্থানীয় ডিসিকে বলা হয়েছে, তিনি পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দেবেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে ডিএমপি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

এরপর রোববার রাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশারককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর খোদ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে ফেইসবুকে শেয়ার করতে দেখা যায়।

খেদ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক বলছেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’

‘পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

এর আগে গত ১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসার পর সরকারপ্রধানের নির্দেশে তিনি পদ ছাড়েন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে রাড্ডার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রায় দুইশ লোক দেশীয় অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে সেখানে ঢুকে একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। আর পাকা ভবনের আল্ট্রাসাউন্ড কক্ষ, টিকা কক্ষ, ল্যাবরেটরিসহ পাঁচটি কক্ষের জানালা-দরজা ভেঙে ফেলা হয়।

ভবনটি থেকে সব ধরনের আসবাবপত্র, ওষুধসামগ্রী, আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি, আলমারি নিয়ে যায় হামলাকারীরা। সব মিলিয়ে পুরো স্থাপনাটির কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয় বলে রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

আরও পড়ুন