২ নভেম্বর ২০২৬

নাসিরনগরে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা

হাওরবেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শুরু হয়েছে দেশীয় মাছের শুঁটকি তৈরির মৌসুম। উপজেলার বিভিন্ন হাওর-বিল থেকে সংগ্রহ করা মিঠাপানির নানা প্রজাতির মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও শ্রমিকেরা। বিশেষ করে দেশীয় পুঁটি মাছের শুঁটকির চাহিদা থাকায় এ মৌসুমে উৎপাদন ও বেচাকেনা ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাংকুলপাড়া এলাকায় লংগন নদীর তীরঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি শুঁটকি উৎপাদনের মাচা। এসব মাচায় সারি সারি করে বিছিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। প্রাকৃতিক উপায়ে মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক। তাঁদের অধিকাংশই নারী।

স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিকভাবে এসব শুঁটকি তৈরি করা হয়। এ কারণে নাসিরনগরের শুঁটকির সুনাম রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও।

উপজেলার বিল বালিঙ্গা, মেদির হাওর, আটাউরি, উত্তর বাল্লা, আগাইড় হাওর, শাপলা বিল ও আকাশি বিল থেকে সংগ্রহ করা হয় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মিঠাপানির মাছ। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে শোল, গজার, বোয়াল, গুলশা, টেংরা, বাইম, পুঁটি, হালুনি ও চান্দাসহ নানা প্রজাতি। তবে অন্যান্য মাছের তুলনায় পুঁটি মাছের শুঁটকিই বেশি তৈরি হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই পুঁটি মাছের শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় ভোজনরসিকদের পছন্দের মুখরোচক খাবার চ্যাঁপা শুঁটকি।

নাসিরনগরের শুঁটকি কিনতে কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা আসেন। তাঁরা এখান থেকে শুঁটকি কিনে নিজ নিজ এলাকায় সরবরাহ করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উৎপাদিত শুঁটকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুঁটকি ব্যবসায়ী সুধাংশু দাস বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুঁটকির উৎপাদন ভালো হচ্ছে। আশ্বিন মাস থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত চলে শুঁটকি তৈরির মৌসুম। এ সময় শুঁটকি উৎপাদনকে কেন্দ্র করে এলাকার শত শত নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়। তিনি বলেন, এ মৌসুমে গড়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেন তিনি। তাঁদের উৎপাদিত শুঁটকি দেশের বাইরেও যায়। এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেক জেলে ও ব্যবসায়ী এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহিমুল আরেফিন বলেন, শুঁটকি ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শুঁটকি তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুঁটকির গুণগত মান ও উৎপাদন পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ