৮ নভেম্বর ২০২৬

তোপের মুখে দোভাষের স্মরণসভায় ঢুকতে পারল না মেয়র নাছির

বাংলাধারা প্রতিবেদন »  

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন নেতাকর্মীদের তোপের মুখে প্রাক্তন মন্ত্রী মরহুম জানে আলম দোভাষের স্মরণ সভায় ঢুকতে পারেন নি ।

অন্যদিকে সভামঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ায় চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনের কাছে ক্ষমা চাইতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে মহিউদ্দিন অনুসারীরা। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের একাংশ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ আলটিমেটাম দিয়েছে।

সোমবার(২৮অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জানে আমল দোভাষের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন। উক্ত সভায় অংশ নিতে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশনে যান চট্টগ্রামের মেয়র আজম নাছির উদ্দিন। সেখানে তাকে দেখে সভার ভিতরে অবস্থানকারী প্রায় হাজারখানেক মহিউদ্দীন গ্রুপের নেতাকর্মী ‘মহিউদ্দীন ভাই, মহিউদ্দীন ভাই’ বলে স্লোগান শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্লোগান শুরুর পরই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে মেয়র স্মরণসভার অনুষ্ঠানে না ঢুকে ফিরে যান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ড. অনুপম সেন, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন। সাবেক মন্ত্রী ও নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. আফছারুল আমিন, সিডিএ চেয়ারম্যান দোভাস ডলফিন, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দীন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান, চন্দন ধর প্রমুখ।

রোববার(২৭অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মহিউদ্দীনপত্নী হাসিনা মহিউদ্দীনকে নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ মহিউদ্দীন গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

এদিকে সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরের সমাবেশ থেকে এ আলটিমেটাম দেয়া হয়। সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিনী ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনের সাথে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ‘অনৈতিক শিষ্টাচার বর্জিত আচরণের’ প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।সমাবেশে নগর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, নগরীর বিভিন্ন কলেজ শাখা ছাত্রলীগসহ কয়েকটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যোগ দেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরূল আজিম রনি, মো. সালাউদ্দিন,  কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল,শ্রমিক লীগ নেতা আবুল হোসেন আবু,চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য উম্মে হাবিবা,ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ,এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমতাজ বেগম, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মো. আবু সাঈদ সুমন, নগর ছাত্রলীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. বিন ফয়সাল, সহ-সভাপতি রোমেল বড়ুয়া রাহুল, সৌমেন বড়ুয়া প্রমুখ।

নুরূল আজিম রনি বলেন, ‘আজকের সমাবেশ শুধু অপমানের প্রতিবাদে নয়, এ সমাবেশ দানব মুক্তির সমাবেশ। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অপশক্তি অবসানের সমাবেশ। সুষ্ঠু, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সমাবেশ।’

মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘উনার এ অপমান আমরা মেনে নিতে পারি না। অনেককে দেখেছি স্টেজে বসেছিল, তারা ফেসবুকে ছবি দেয়। আর হাসিনা মহিউদ্দিনকে নেমে যেতে হয়! মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবার আমাদের আবেগের আশ্রয়স্থল, একে অপমান করা হয়েছে।’

হাসান মনসুর বলেন, হাসিনা মহিউদ্দিন একজন নেত্রী, সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতির স্ত্রী এবং একজন মন্ত্রীর মা। তাঁকে ষড়যন্ত্র করে অসম্মানিত করা হয়েছে। তিনি ৪১ ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী। আমরা চাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাসিনা মহিউদ্দিনের সাথে বসে আলোচনা করে এটার সমাধান করুন।

অবশ্য গতবছর(২০১৮সালে) চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাবেক সাংসদ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম জানে আলম দোভাষের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ