৮ নভেম্বর ২০২৬

সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে পেঁয়াজের দাম

বাংলাধারা ডেস্ক »  

লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। দেশের মানুষ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে দেশি পেঁয়াজ খেতে হয়েছে। নিত্যপণ্যটির দাম নিয়ে যে কারসাজি চলছে এ যেন শুভঙ্করের ফাঁকি। যদিও এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকবার পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করেছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান, মায়ানমার, চীন, তুরস্ক ও মিশর থেকে পেঁয়াজের বড় চালান দেশে এসেছে। এতে করে পেঁয়াজের কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দাম কমে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই আবারও  পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। ফলে দেশি পেঁয়াজ এখন কেজিপ্রতি ২৩০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৭০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।ফলে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে পেঁয়াজের দাম।

ক্রেতাদের অভিযোগ,সরকারের সব উদ্যোগকে উপক্ষো করে কারসাজি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বাজার দর স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে আমদানিকারকদের সব ধরনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারপরেও বাজারে  রান্নার অন্যতম উপকরণটির দাম কমছেনা কেন-এমন প্রশ্ন রেখেছেন তারা।

আমদানি করা পেঁয়াজের মজুদ ও বিক্রির তথ্য জানতে দেশের শীর্ষ ৪৭ আমদানিকারককে তলব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পেঁয়াজ কারসাজির ঘটনা তদন্তের জন্য ৪৭ আমদানিকারকের মধ্যে ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে শুল্ক বিভাগ।

এ ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসের বেশি সময়ে ১ হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেছে ৪৭ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৪শ কোটি টাকা খরচে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৫৮ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে তারা। অর্থাৎ প্রতি কেজি পেঁয়াজ আমদানিতে তাদের খরচ হয়েছে গড়ে ৩৮ টাকা ২৬ পয়সা।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, কারা কারা পেঁয়াজ মজুত করে রেখেছে, আসলেই বেশি দামে বিক্রি করেছে কি না, কত দিন মজুত রেখে– এই জিনিসগুলো বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বেশি লাভের আশায় ধরে না রেখে বাজারে ছেড়ে দিলে সবাই এর ইতিবাচক ফল পাবে।

পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে  সব বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত কত টন পেঁয়াজ মজুত আছে, সেটাই জানার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, দাম নিয়ে টানা দুই মাসের অস্থিরতায় পেঁয়াজ কেনায় লাগাম দিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নিত্যপণ্যটির অতিমূল্য নিয়ে তাদের মধ্যে আর হা-হুতাশ নেই । দোকানে গিয়ে এখন আর কেউ পেঁয়াজের কেজি কত জিজ্ঞেস করেন না। কোনো ধরনের দামও করেন না।  ম্লান মুখে দোকানে গিয়ে  হাতেগোনা কয়েকটা পেঁয়াজ নিয়ে বিক্রেতার চাহিদামতো দাম দিয়ে চলে আসেন ক্রেতারা।

সরকারের বিমানে পেঁয়াজ আনার উদ্যোগে ক্রেতার মনে কিছুটা আশা জেগেছিল । কিন্তু বিদেশ থেকে পেঁয়াজ উড়ে আসার পর আবারও পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকা  হওয়ায় তাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ