বাংলাধারা প্রতিবেদন »
পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার নেপথ্য কুশিলবদের খোঁজে নেমেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে ডেকে নেয়া হয়েছে বড় আমদানিকারকদের। ৪১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গতকাল শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন ১০ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। আজ হাজির হবেন বাকিরাও।
তবে এখানেই শেষ নয়, আমদানির পর বিক্রির চেইন ধরে চলবে তদন্ত। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের হিসাবে, আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮০৬ দশমিক ৪৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। যার মধ্যে গতকাল তদন্তে হাজির হওয়া ১০ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই আমদানি হয়েছে ৪৪ হাজার ৩১ মেট্রিক টন।
এদের প্রত্যেকেই ন্যূনতম ১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। যার মোট আমদানি মূল্য ১৫৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। আমদানিকৃত এই পেঁয়াজ কতো টাকায় বিক্রয় হয়েছে প্রাথমিক ভাবে সেটাই জানতে চাইছেন গোয়েন্দারা। তবে এখানেই শেষ নয় বরং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে বিক্রয় চেইন ধরে এগুবে এই তদন্ত।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে যেসব ব্যবসায়ী একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে আমরা মূলত তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। এখনই কারও নাম উল্লেখ করার মতো সময় হয়নি।
ব্যবসায়ীদের কাছে কী পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে তারও অনুসন্ধান চলছে জানিয়ে তার ভাষ্য, আমরা তাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। যারা আমদানি করেছেন, তারা আমদানির পরে কোথায় কোথায় বিক্রি করেছেন। কী মূল্যে বিক্রি করেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের হাতে কতো টন পেঁয়াজ মজুত আছে, সেটাই আমরা জানার চেষ্টা করছি।
এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াও পেঁয়াজ তদন্তে তেমনই আভাস দিয়েছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, কারা পেঁয়াজ আমদানি করেছেন, আমদানিকারকরা সেসব কোথায় বিক্রি করছেন এসব তথ্য এনবিআর সংগ্রহ করছে। কোথাও অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে গতকাল কাকরাইলের শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে শুনানিতে হাজির হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক আব্দুল আওয়াল বলেন, তারা (শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর) আমাদের কাছে আগস্ট থেকে তিন মাসের স্টেটমেন্ট (বিবরণ) চেয়েছিলেন, আমরা ইনপোর্টের (আমদানি) তথ্য তাদের কাছে তুলে ধরেছি। পেঁয়াজের দাম দৃদ্ধিতে তাদের কোনো কারসাজি নেই বলেও এ সময় দাবি করেন এ ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ী আরও জানান, দেড়মাস আগে আমদানি মূল্যের সঙ্গে সামান্য মুনাফা রেখেই তারা পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি করেছেন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গতকাল যে ১০ প্রতিষ্ঠানকে ডাকা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের টিএম এন্টারপ্রাইজ। এ সময়ে ৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা মূল্যে নয় হাজার ২০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। বাকিদের মধ্যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একতা শস্য ভান্ডার ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খরচ করে তিন হাজার ৩৯৪ টন, সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ ১৩ হাজার ৬ লাখ টাকা খরচ করে তিন হাজার ৪৪৮ টন, নূর এন্টারপ্রাইজ ১৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে চার হাজার ৪৩৮ টন, আরএম অ্যাগ্রো নয় কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চার হাজার ৭০০ টন, টিএম এন্টারপ্রাইজ ৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নয় হাজার ২০ টন, বিএইচ ট্রেডিং অ্যান্ড কোম্পানি ১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার ৭৪৬ দশমিক ৫০ টন, রাজশাহীর ফুল মোহাম্মদ ট্রেডার্স ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার ৮৫ টন, সাতক্ষীরার দীপা এন্টারপ্রাইজ প্রোপার্টিজ ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ হাজার ৬৯৩ টন, নওগাঁর জগদীশ চন্দ্র রায় ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার ৫৭৪ দশমিক ৫০ টন এবং বগুড়ার সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ নয় কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ৯৩২ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল ১৪ আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও ১০ জন শুল্ক গোয়েন্দায় হাজির হন। আজ ২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা রয়েছে। এদের সঙ্গে যুক্ত হবেন গতকাল অনুপস্থিত থাকা চারজন।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ













