৮ নভেম্বর ২০২৬

‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই মহিউদ্দিন চৌধুরীর শিক্ষা’

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধা এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, ‘অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষাই দিয়েছেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।’

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকালে নগরীর ৩৮নং দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ডস্থ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মরণ সভা পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয় বেগমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মন্তব্য করেন।

স্মরণ সভা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ কামরুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সালাউদ্দিন মামুনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর ও চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সদস্য আফরোজা কালাম, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইলিয়াছ, ৩৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. হাসান, বেসরকারি কারা পরিদর্শক আজিজুর রহমান আজিজ।

এ সময় খোরশেদ আলম সুজন বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন রাজনৈতিক মহীরুহ। যে কোন দুর্যোগে তিনি দল ও চট্টগ্রামবাসীর ওপর ছায়ার মতো থাকতেন। সমাজের প্রতিটি স্তরে কাজ করে তিনি নন্দিত জননেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান লাভ করেন। তাই তার মৃত্যু সমাজের নিপীড়িত নিস্পেষিত মানুষের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

সুজন বলেন, ছোটবেলা থেকেই অসীম সাহসের অধিকারী মহিউদ্দিন চৌধুরী ছাত্র অবস্থা থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে লালদীঘির মাঠে জনসভার ডাক দেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মার্চেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন মহিউদ্দিন চৌধুরী। ধারাবাহিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যান ভারতে। ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রশিক্ষণ শেষে ‘মাউন্ট ব্যাটালিয়ন’র প্লাটুন কমান্ডার নিযুক্ত হন তিনি। পাহাড়ি এলাকায় তিনশ মুক্তিযোদ্ধার দলের নেতা হিসেবে সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর মুসলিম হলে ক্যাম্প স্থাপন করে অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। নিজ হাতে দাফন করেন ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের যা হতবাক করেছে সারা দেশবাসীকে। এরপর ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হয়েই বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। ১৯৯৬ সালে অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের পতন ঘটিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নগরীর পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে মনোনিবেশ করেন সফল হন মহিউদ্দিন চৌধরী। সে সময় মহিউদ্দিন চৌধুরীর কর্মকাণ্ড দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

নতুন প্রজন্মকে মহিউদ্দিন চৌধুরীর আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বন্দর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ, মো. এজাহার মিয়া, আব্দুল হাকিম মেম্বার, এস.এম আবু তাহের, হাজী মো. হোসেন, শের আলী সওদাগর, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য নুরুল কবির, মোরশেদ আলম, হাফেজ মো. ওকার উদ্দিন, সরওয়ার জাহান চৌধুরী, হাজী নুরুল হুদা, নজরুল ইসলাম টিটু, ছালেহ আহমদ জঙ্গী, এজাহারুল হক, সৈয়দ মুনির, মহানগর যুবলীগ নেতা সমীর মহাজন লিটন, হাসান মো. মুরাদ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ