কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার বাদিকে (ভিকটিমের পিতা) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসামীপক্ষ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে তাকে ডেকে নিয়ে পেটে খুন্তি ঢুকিয়ে আহত করা হয় তাকে।
নিহত মুহাম্মদ ইউনুছ (৩৭) রামুর গর্জনিয়ার গলাছিরা দোছরি এলাকার মরহুম কালাম বকসুর ছেলে।
স্বজনদের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে তথ্যটি জানিয়েছেন বাদিপক্ষের আইনজীবী আমান উল্লাহ আমানু। মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাতে বাড়ির পথে রওয়ানা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার প্রসঙ্গে এডভোকেট আমান উল্লাহ আমানু জানান, বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে মুহাম্মদ ইউনুছকে জরুরি কাজের জন্য ডেকে বাড়ির ওঠানেই পেটে খুন্তি ঢুকিয়ে মারাত্মক আহত করে ধর্ষণ মামলায় কারান্তরীণ আসামি জয়নাল আবেদিনের বড় ভাই মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৩৫)। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ইউনুছকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে, পরে চমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
অভিযুক্ত ইলিয়াছ গর্জনিয়ার গলাছিরা দোছরি এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।
তিনি আরো জানান, ২০১৮ সালের ১৩ আগষ্ট দুপুর ১২ টার দিকে দুই বান্ধবী স্কুল থেকে ফেরার পথে দোছরি গলাছিরা কবিরার পাহাড় নামক স্থানে পৌঁছলে মোহাম্মদ শাহীন ও জয়নাল আবেদীন (কারান্তরীন) ফুঁসলিয়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দুই বান্ধবীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলে।
এ ঘটনায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু ভিকটিমের পিতা মুহাম্মদ ইউনুছ (৩৫) ২৬ আগষ্ট কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে (নং-২) মামলা করেন (মামলা নং-৮৩/২০১৯)। মামলার একমাত্র আসামি জয়নাল আবেদিন (২২) বর্তমানে কারাবন্দি। তিনি গর্জনিয়ার গলাছিরা দোছরি এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সিআইডি। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলে। আদালতে প্রতিবেদনও জমা করেছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা। গত ১৩ জানুয়ারি আদালতে বাদিপক্ষে সাক্ষির জবানবন্দি প্রদান করেন ছলিম উল্লাহ। মামলা ও সাক্ষ্য দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাদি মুহাম্মদ ইউনুছকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভিকটিম পরিবারের সদস্যরা।
আদালত সূত্র জানায়, একই দিনে একই ঘটনায় কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে (নং-২) পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে।
একটি মামলা নং-৮৩/২০১৯। মামলাটির বাদি মোহাম্মদ ইউনুছ। ভিকটিম মেয়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শেণিতে অধ্যয়নরত।
আরেকটি শিশু মামলা নং-০৬/২০১৯ এর বাদি বুলবুল আকতার। দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মুহাম্মদ শাহীন নামের এক বখাটেকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআর













