৩ মে ২০২৬

অদৃশ্য কারণে বন্ধ শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন

পটিয়া প্রতিনিধি »

শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। তারপরও পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মিলে মাসে কোটি টাকা খরচ বহন করতে হয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে।

খরচ কমাতে ইতোমধ্যে পুরো জনবল অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। ফলে লোকসানি প্রতিষ্ঠানটি একেবারেই বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তালিকা থেকে এই কেন্দ্রের নাম মুছে ফেলেছে পিডিবি।

এব্যাপারে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী (উৎপাদন) ভূবন বিজয় দত্ত জানান, এক বছর আগে থেকে ৬০ মেগাওয়াট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পিডিবি থেকে বলা হচ্ছিল। কিন্তু চূড়ান্তভাবে বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে তৎকালীন পটিয়া উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নে কর্ণফুলী নদী ও শিকলবাহা খালের মোহনায় ৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন গ্যাসনির্ভর শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই কেন্দ্রকে ঘিরে শিকলবাহায় পিডিবির অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হয় স্কুল ও আবাসিক এলাকা। ৬০ মেগাওয়াটের হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে ৩৫ বছরের পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সক্ষমতা হ্রাস পায়।

আরো জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি সঞ্চালন লাইনে ট্রান্সফরমারে আগুন লেগে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করলেও তেমন একটা সচল ছিল না প্লান্টটি। কিন্তু বন্ধ থাকলেও সচল রাখার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রতি মাসে মোটা অংকের ব্যয় বহন করতে হচ্ছিল পিডিবিকে।

অপর দিকে, ব্যয় হ্রাসের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের নতুন নির্মিত ২২৫ মেগাওয়াট শিকলবাহা রিসাইকেল পাওয়ার প্লান্টে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। এতে পরিচালনা ব্যয় কমলেও কমেনি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। প্রায় আট মাসের ও বেশি সময় ধরে উৎপাদন হচ্ছে না বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে। চলতি জুলাই হতে পিডিবির ওয়েবসাইট থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়মিত তালিকা হতে ৬০ মেগাওয়াট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামটি মুছে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিডিবির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর হওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যয় ছিল অনেক কম। কিন্তু গ্যাসের অভাবে ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখলেও এখন এলএনজি আসার পরও অদৃশ্য কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ রাখছে পিডিবি।

বন্ধ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। যার ফলে একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এসময় তারা আরো জানান, সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল থাকলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কম বিদ্যুৎ নিতে হবে। তাই বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্যই সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পিডিবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর কুমার সেন জানান, ৬০ মেগাওয়াট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। তবে কী কারণে তালিকা থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নাম মুছে ফেলা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এলএনজি আসার পর কেন পুরানো বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তিনি নাকচ করে দিয়ে জানান, প্রয়োজনের তুলনায় এ কেন্দ্রটিতে লোকবল অনেক বেশি এবং যে পরিমান উৎপাদন তার সাথে আয় ও ব্যায়ের সমন্বয় না থাকার কারনে লোকসানের বোঝা বেড়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী (উৎপাদন) ভূবন বিজয় দত্ত বলেন, ৬০ মেগাওয়াট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রতি মাসে কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যয় হতো। এখন আর আগের মতো খরচ হচ্ছে না। কারণ এ প্লান্টের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২২৫ মেগাওয়াট রিসাইকেল পাওয়ার প্লান্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে লোকসানের ঝুঁকির পরিমান বেড়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, সরকার ব্যক্তি মালিকানাধীন কেন্দ্র থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছে, কিন্তু কার স্বার্থে এ কেন্দ্রটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে তা এখনো অজানা রয়েছে গেছে। কেন ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রেটি অকার্যকর করে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের পাঠানো হয়েছে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শ্রমিক অসন্তোষও।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ