বাংলাধারা প্রতিবেদন »
নগরীর লালখান বাজার এলাকার আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমের ব্যক্তিগত দু’টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লালখান বাজার ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিকের এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় মাসুমের অস্ত্র দু’টির লাইসেন্স বাতিল করেছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকায় মাসুমের বাসায় অস্ত্র দু’টি জব্দে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে দিদারুল আলম মাসুম বা তার অস্ত্র কোনটিরই সন্ধান পায়নি পুলিশ। অস্ত্রগুলো থানায় জমা দেওয়ার জন্য বাসায় নোটিশ দিয়ে চলে এসেছে পুলিশ।
দিদারুল আলম মাসুম নগরীর লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। মাসুম লালখান বাজারের চানমারি রোডের ইপিক কামারপার্ক নামে একটি ভবনের বাসিন্দা আবদুল হকের ছেলে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লালখান বাজার ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিক গত ২২ জুলাই মাসুমের নামে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ থাকা দু’টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি মাসুমকে চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তাকে ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়া যুবলীগ নেতা রিপন ও মিজান এবং ছাত্রলীগ নেতা আবদুল মোমিন ও মুজিব হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরা হয়।
মাসুমের বিরুদ্ধে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ এনে কাউন্সিলর মানিক আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে মাসুম বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাকে হত্যা কিংবা হামলার শিকার হতে হয়।
এই আবেদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অস্ত্র দু’টির লাইসেন্স বাতিল করে জব্দের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ৩১ জুলাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স বাতিল করে অস্ত্র দু’টি জব্দের বিষয়ে চিঠি দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারকে। সিএমপির বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার মো.আব্দুল ওয়ারিশ খান বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অস্ত্র দু’টি জব্দের নির্দেশ দেন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রনব চৌধুরী বলেন, লাইসেন্স বাতিল হওয়া অস্ত্র দু’টি জব্দের জন্য আমরা দিদারুল আলম মাসুমের বাসায় গিয়েছিলাম। কিন্তু বাসায় তাকে পাওয়া যায়নি। অস্ত্রও পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি চট্টগ্রামের বাইরে আছেন।
ওসি প্রনব বলেন, আমরা নোটিশ দিয়ে এসেছি। এতে বলা হয়েছে- নোটিশ প্রাপ্তির সাথে সাথেই যেন অস্ত্রগুলো থানায় জমা দেওয়া হয়। অন্যথায় অবৈধ অস্ত্র হেফাজতে রাখার দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












