৩ মে ২০২৬

গোলাম রাব্বানীর সহযোগিতা পেয়ে কাঁদলেন ক্যান্সারাক্রান্ত সুনন্দ’র মা

কক্সবাজার প্রতিনিধি  »

মরণ ব্যাধী ক্যান্সারের সাথে লড়াই করতে গিয়ে আয়ের একমাত্র পূঁজি ইজিবাইকটি (টমটম) হারিয়েছেন আরো আগে। সম্প্রতি বিক্রি করে দিয়েছেন মাথাগোঁজার একমাত্র ঠাই ভিটে বাড়িটি। এরপরও কুলিয়ে উঠতে না পেরে হাপিত্যেশ করছিলেন কক্সবাজারে শহরের ঘোনারপাড়া এলাকার কর্মঠ যুবক সুনন্দ দে’র পরিবার। চেষ্টা চলছিল বাড়ির আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছেলেটিকে বাঁচানোর প্রাণান্ত চেষ্টা। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে হতাশ হচ্ছিলেন সুনন্দের মা। 

এরই মাঝে কিভাবে যেন খবরটি পৌঁছে যায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর কানে। তার নির্দেশনায় ক্যান্সার আক্রান্ত অসহায় সুনন্দ দে’র চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন ছাত্রলীগের কক্সবাজারের কিছু নেতা-কর্মী। 

রোববার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর বৈরী আবহাওয়ার মাঝে গোলাম রাব্বানীর পক্ষে সুনন্দের অসহায় পরিবারের কাছে আর্থিক অনুদান তুলে দেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক মারুফ আদনান।
আর ছাত্রলীগের সহযোগিতা পেয়ে় আবেগে আপ্লুত সুনন্দ’র মা মারুফ আদনানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। এসময় তিনি সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর জন্য আর্শিবাদ করেন।

সুনন্দ’র মা বলেন, ছাত্রলীগের সহযোগিতা আমার নিস্তেজ মনে বল এনে দিয়েছে। এটি সহযোগিতা নয়, ভগবানের আর্শিবাদ। দেশের সব ধরণের ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রলীগ কাজ করে এটা বিভিন্ন বক্তব্যে শুনে এসেছি, কিন্তু এর বাস্তবতা উপলব্ধি করলাম নিজের ক্ষেত্রে ঘটা কর্মে। ছাত্রলীগ রাষ্ট্রীয় কর্ম সাধণের পাশাপাশি মানবতার জন্যও কাজ করে এটার প্রমাণ আমিও।       

তিনি বলেন, গত ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে সুনন্দ’র খাদ্য নালীতে টিউমার ধরা পরে। আর্থিক অচ্ছলতার কারণে সে সময় সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে পারিনি। ফলে পর্বতীতে এটি ক্যান্সারে রূপ নেয়। এ অবস্থায় উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন টমটম গাড়ীটিও বিক্রি করে দেয় ছেলেটি। কিন্তু দিন দিন তার শারীরীক অবস্থা অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরে ক্যান্সার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, ভারতে নিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের মাথাগোঁজার ঠাঁই বাড়িও বিক্রি করে দিই। তারপরও প্রয়োজনীয় টাকার সংস্থান হচ্ছিল না। আজ পাওয়া ছাত্রলীগের সহযোগিতা আমার জন্য কোটি টাকার সমান। ভগবান আপনাদের মঙ্গল করুক।

বৃদ্ধাকে সান্তনা দিয়ে জেলা ছাত্রলীগ নেতা মারুফ বলেন, আমার নেতা রাব্বানী ভাই আপনার ছেলের বিষয়ে জানার পর এ সহযোগিতা পাঠিয়েছেন। তিনি পরবর্তীতে আরো সহযোগিতার কথা বলেছেন এবং আপনার ছেলের খোঁজ খবর রাখছেন। 

এই সময় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইসমাইল সাজ্জাদ, হারুনর রশিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবাইছুর রহমান, উপ- আইন বিষয় সম্পাদক আবুল কাশেম আবু, পৌর ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিম আকরাম, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মনিররুল হক, জিয়া উদ্দিন, সাদ্দাম, মানিক, রাশেল, সাগর, মনির, তানজিল, শোয়েব, শাহেদুল হক সাহেদ, মোবারক, বাবু, মেহেদী হাসান, হাসানুল হক, শাকিল, মেহেদী রাজ, মোঃ ফয়সাল,  ইরফান, জসিম, মাসুম, তারেক, আব্বাস, মাহি, রুস্তম, শাহেন শাহ, হেলাল, জিকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ