১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাগরিক শোকসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত

চট্টগ্রামকে বিশ্বমানচিত্রে তুলে ধরেছেন অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি বলেছেন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন শুধু একজন চিকিৎসক নন, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি লাখো মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামকে বিশ্বমানচিত্রে তুলে ধরেছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি) ও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)-এর উদ্যোগে টাইগারপাস আমবাগান রোডস্থ নেভি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের স্মরণে নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চক্ষু চিকিৎসা সেবায় অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মানুষের কল্যাণে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর আদর্শ ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর মতো মানুষ বিরল। তিনি দেশের গর্ব, একজন সেরা চিকিৎসক ও সেরা ছাত্র ছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের লাখো মানুষের দৃষ্টির আলো ফিরিয়ে দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। মানুষের জন্য হাসপাতাল গড়ে তুললেও সেখানে নিজের নাম যুক্ত করেননি। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার দায়িত্ব বোর্ড অব ট্রাস্টের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন। তিনি ছিলেন একজন মহান কর্মবীর।’

ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চলে গেলেও তাঁর স্বপ্ন আজও বেঁচে আছে। তাঁর দুই সন্তান ডা. রাজীব হোসেন ও রিয়াজ হোসেন সেই প্রতিষ্ঠানগুলো সুন্দরভাবে পরিচালনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সমাজের কোনো অপশক্তি যেন এসব প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এমপি বলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন সমাজের জন্য অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর ‘প্লেজার অ্যান্ড পেইন’ গ্রন্থে সেই জীবনসংগ্রাম ও মানবিক দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে। তিনি যে মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন যে সহজলভ্য চক্ষু চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, তার তুলনা নেই। দেশের আটটি জেলায় তিনি চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এমন একজন মহান মানুষের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’

মাওলানা মো. মেজবাহ উদ্দিনের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিইআইটিসির ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ. এম. অহিদুল আলম। আইসিওর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান ওসমানীর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিইআইটিসি ট্রাস্টের ট্রেজারার মোহাম্মদ রেজওয়ান শাহিদী।

এসময় চক্ষু চিকিৎসা সমিতির উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা শামীম, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফুর রহমান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ছিদ্দীক স্যার, সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান নাদের খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান শিরিন পারভীন হক, ইসলামিয়া হাসপাতালের মো. ফয়সাল সাহেদ, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের দুই পুত্র ডা. রাজীব হোসেন ও রিয়াজ হোসেনসহ চিকিৎসক, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. রুকনুন চৌধুরী এবং আয়োজক কমিটির সদস্য ও হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. গোলাম ফারুক।

আরও পড়ুন