রাজধানীর বংশালের চানখারপুলের কায়েতটুলি এলাকার একটি মেসকক্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অনিক চন্দ্র পাল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেসকক্ষ থেকে অনিককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
অনিকের মেসসঙ্গী ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার থেকে অনিকের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাতে অনিকের এক সহপাঠী ফোনে তাকে না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নিতে জয়কে জানান। পরে জয় ও ওই সহপাঠী অনিকের কক্ষের সামনে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।
পরে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকালে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সহপাঠী ও মেসের সদস্যদের ভাষ্য, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে অনিকের একটি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি অনেকটা নীরব ও একাকী হয়ে পড়েছিলেন। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানান তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে যান জবি ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছান। তবে ততক্ষণে অনিক মারা গেছেন।
অনিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে সুবাস পাল বলেন, তার বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় আসার পর হাসপাতাল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অনিকের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে অনিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।
তবে অনিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামনে এলেও মৃত্যুর কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।














