২৪ এপ্রিল ২০২৬

জব্বারের বলীখেলা ঘিরে জমে উঠছে বৈশাখী মেলা

ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলাকে ঘিরে চট্টগ্রামের লালদীঘির আশপাশের এলাকায় জমে উঠছে বৈশাখী মেলা। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হকার, কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে এসে ভিড় জমিয়েছেন।

প্রতি বছর ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হওয়া এই বলীখেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি এলাকা ছাড়াও কোতোয়ালি মোড় থেকে আন্দরকিল্লা হয়ে সিনেমা প্যালেস পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। বৈশাখী মেলার আগের দিন থেকেই বিক্রেতারা তাদের পণ্যসামগ্রী সাজিয়ে বসছেন, ফলে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

মেলায় পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের দেশীয় ও লোকজ পণ্য। মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাব, ফুলের ঝাড়ু, হাতপাখা, মুড়ি-মুড়কি, দা-বঁটি ও ছুরিসহ গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে ভরপুর প্রতিটি দোকান। প্রতিটি স্টলেই যেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

মেলায় অংশ নিতে আসা ব্যবসায়ীদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। কুমিল্লা থেকে আসা বিক্রেতা উজ্জ্বল কুমার জানান, তিনি হাতপাখা ও ফুলের ঝাড়ু নিয়ে এসেছেন। তার ভাষায়, ‘প্রতিবছর এখানে ভালো বিক্রি হয়, তাই এবারও ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছি।’

ঢাকা থেকে আসা বিক্রেতা মামুন হাওলাদার জানান, ‌তিনি মাটির তৈজসপত্র নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘মাটির জিনিসের চাহিদা সবসময়ই থাকে। এবারও ক্রেতাদের আগ্রহ ভালো, বিক্রিও সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছি।’

স্থানীয় বিক্রেতারাও আশাবাদী। তাদের মতে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি হবে। অতীতে বৃষ্টির কারণে কেনাবেচা ব্যাহত হলেও এবার পরিষ্কার ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন তারা।

এদিকে, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ এপ্রিল। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ২৪ এপ্রিল থেকেই শুরু হবে বৈশাখী মেলা, যা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে ২৬ এপ্রিল ভোরের মধ্যেই শেষ করা হবে।

আয়োজনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গতকাল বুধবার লালদীঘি চত্বরে বলীখেলার প্রতিকৃতি–সংবলিত ম্যুরালের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। এ সময় জব্বারের বলীখেলার প্রবর্তক আবদুল জব্বারের নামানুসারে চত্বরটির নাম ‘জব্বার চত্বর’ নামকরণ করা হয়েছে।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ম্যুরালটি বীর চট্টলার সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং আদালতে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির চেতনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। চট্টগ্রামের এ বলীখেলার ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে এই ভাবনা থেকে এই ম্যুরাল নির্মাণ করা হলো।’

আরও পড়ুন