৪ মে ২০২৬

ঝাড়ফুঁক ও পানিপড়া দেওয়ার নাম করে শিশুকে ধর্ষণ, ইমামসহ আটক ৬

বাংলাধারা ডেস্ক »

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পানি পড়াসহ ঝাড়ফুঁক দেওয়ার নাম করে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে চাদঁমারী বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের ইমামকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব-১১)।

(৬ আগস্ট২০১৯) মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা চাঁনমারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বুধবার (৭ আগস্ট) সকাল ৮টায় মাওলানা মো. ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলামকেসহ ছয় জনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, মসজিদের ইমাম ও নেত্রকোনা কেন্দুয়া থানার সরাপাড়া গ্রামের মৃত রিয়াজউদ্দীনের ছেলে ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও তার সহযোগী রমজান আলী (৪৯), মোঃ গিয়াস উদ্দিন (৫২), হাবিব এ এলাহী ওরফে হবি (৫৫), মোঃ মোতাহার হোসেন (৪৮) ও মোঃ শরিফ হোসেন (৪৫)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব ১১-এর কমান্ডিং অফিসার কাজী শামশের উদ্দিন জানান, মাদ্রাসায় নির্যাতনের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশুটি রাতে ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে প্রায়ই কান্নাকাটি করতো।

এজন্য ভিকটিমের বাবা মেয়েকে নিয়ে চাদঁমারী বায়তুল হাফেজ মাদ্রাসা মসজিদের ইমাম মাওলানা ফজলুর রহমানের কাছ থেকে পানি পড়া এনে তাকে খাওয়ান। এভাবে দুই তিনবার এনে খাওয়ানেরা পরও ভালো না হওয়ায় তিনি আবার হুজুরের শরণাপন্ন হন।

পরে মাওলানা ফজলুর রহমান বাড়ি বন্ধ করাতে হবে বলে ভিকটিমের বাসায় গিয়ে শিশুটিকে ঝাড়ফুঁক দিয়ে আসেন।

এরপরও মেয়ে ভালো না হওয়ায় গত শনিবার (৩ আগস্ট) মাওলানা ফজলুর রহমানকে ফোন দেন ভিকটিমের বাবা। মাওলানা তাকে শুক্রবার (৪ আগস্ট) ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েকে চাদঁমারী বাইতুল হাফেজ মসজিদে নিয়ে আসার জন্য বলেন।

মাওলানার কথামতো মেয়েকে নিয়ে মসজিদে হাজির হন তিনি। ফজরের নামাজের পর মুসল্লিরা চলে গেলে কৌশলে মাওলানা ফজলুর রহমান মেয়ে ও তারা বাবাকে মসজিদের তিনতলায় নিজের শোবার রুমে নিয়ে যান।

পরে মেয়েটির বাবাকে ঝাড়ফুঁকের জন্য আগরবাতি, মোমবাতি ও পান লাগবে বলে দোকানে পাঠায়। এতো ভোরে দোকান না খোলায় এগুলো নিয়ে আসতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লেগে যায়। এ সুযোগে মাওলানা ফজলুর রহমান শিশুটিকে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে এবং মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য মেয়েটিকে মসজিদের ছাদে নিয়ে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে। পরে একটি ছুরি দেখিয়ে মেয়েটিকে এই কথা কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখায়। একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেন।

শিশুটি বাসায় গিয়ে পরিবারকে সবকিছু খুলে বলে। এরপর তারা শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে এসে কমিটির লোকজনকে বিষয়টি জানান।

এ সময় কমিটির কয়েকজন সদস্য ও আশপাশের লোকজন তাদের হেনস্তা করে এবং হুজুরের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না করতে ভয়ভীতি দেখায়।

এরপর স্বজনরা গোপনে চিকিৎসার নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া ) ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে শিশুটিকে ভর্তি করে। তখন ফজলুর রহমানের অনুসারীরা হাসপাতালে গিয়ে মেয়েটির বাবাকে অপহরণের চেষ্টা করে। পরে মেয়ের বাবা হাসপাতালের টয়লেটে গিয়ে লুকিয়ে থাকেন।

মেয়েটির বাবা যেন থানায় যেতে না পারেন সে জন্য হাসপাতালে পাহারা বসায় তারা। একপর্যায়ে এক নার্সের বোরকা পরে মেয়েটির বাবা র‌্যাব-১১-এর কালিরবাজার ক্যাম্পে অভিযোগ দিলে র‌্যাব ঘটনার সত্যতা পায়।

পরে র‌্যাব মসজিদের ইমামসহ ছয় জনকে আটক করে। এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি/আরইউ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ