৪ মে ২০২৬

৯ দেশে ১১২২ সম্পদের পাহাড় সাবেক ভূমিমন্ত্রীর

প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ফ্ল্যাট, প্লট ও বাড়ির তথ্য পেয়েছে দুদক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে বিশ্বের নয়টি দেশে ১১২২টি ফ্ল্যাট, প্লট ও বাড়ির সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সম্পদ যুক্তরাজ্যে—৮০৬টি স্থাবর সম্পত্তি। এর বাইরে কম্বোডিয়ায় ১১৬টি, দুবাইয়ে ৭৩টি, মালয়েশিয়ায় ৪৭টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪১টি, থাইল্যান্ডে ২৪টি, ভারতে ১১টি, ভিয়েতনামে ৪টি এবং ফিলিপাইনে ২টি সম্পদের তথ্য মিলেছে। এসবের অধিকাংশই ফ্ল্যাট, তবে রয়েছে প্লট ও বাড়িও।

দুদক সূত্র জানায়, সম্পদের বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের জন্য ৯টি দেশে মোট ১১টি মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ থেকে জবাব এসেছে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ে বাংলাদেশের আদালতের ৬টি ক্রোক আদেশ পাঠানো হয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার ধীরগতির সুযোগে কিছু সম্পদ বিক্রি করে অর্থ দুবাইয়ে পাচারের চেষ্টা চলছে।

দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ৩০টি মামলা হয়েছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে কমিশনে শীর্ষ পদ শূন্য থাকায় অনুসন্ধান ও তদন্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদেশে থাকা সম্পদ বিক্রি করে অর্থ স্থানান্তর করছেন। এছাড়া ব্যাংক ঋণ অনিয়ম ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।”

চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, “আমাদের হাতে থাকা নথিতে দেখা যায়, তিনি ২০১২ সাল থেকেই ভারতের নাগরিক। তার নামে ইস্যুকৃত আধার কার্ডের তথ্যও পাওয়া গেছে।”

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অভিযানে ২৩ বস্তা নথিপত্র জব্দ করা হয়, যেখানে দেশ-বিদেশে সম্পদ ক্রয়, বিক্রয় ও অর্থ পাচারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, সিআইডি, এনবিআরসহ ৯ সদস্যের টাস্কফোর্স সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৩০টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং বিদেশি সম্পদ জব্দে আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সম্পদ যুক্তরাজ্যে—৮০৪টিরও বেশি ফ্ল্যাট ও বাড়ি, যার মূল্য প্রায় ৮৫১০ কোটি টাকা। এরপর কম্বোডিয়া, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ভারত ও ফিলিপাইনে শত শত কোটি টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে Al Jazeera-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে “The Minister’s Millions” শিরোনামে তার বৈশ্বিক সম্পদের তথ্য প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে উঠে আসে, যেখানে যুক্তরাজ্যেই শত শত সম্পত্তির উল্লেখ ছিল।

বর্তমানে আদালতের আদেশে তার নামে থাকা শত শত সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব, শেয়ার ও জমি জব্দ রয়েছে। একই সঙ্গে তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর রয়েছে।

দুদক বলছে, পুরো সম্পদ অনুসন্ধান ও জব্দ প্রক্রিয়া এখনও চলমান, এবং নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ