৮ নভেম্বর ২০২৬

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে মালয়েশিয়াগামী ৯ জন উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের প্রস্তুতিকালে তিন রোহিঙ্গাসহ ৯ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরীঘাট উপকূলে অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় মানব পাচারকারী চক্রের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সী-বিচ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল লম্বরীঘাট এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপকূলীয় ঘাটে ২০ থেকে ২৫ জনের সন্দেহজনক জটলা দেখতে পায় বিজিবি। এ সময় সমুদ্র থেকে একটি সন্দেহভাজন নৌকা ঘাটের দিকে আসতে দেখে সেটিকে ধাওয়া করেন বিজিবি সদস্যরা।

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মানব পাচারকারী চক্রের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠে গভীর সমুদ্রের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, প্রলোভন দেখিয়ে ও জোরপূর্বক তাঁদের মালয়েশিয়ায় নেওয়ার জন্য সেখানে আনা হয়েছিল।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার ছয়জন এবং উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তিনজন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বালুখালী ক্যাম্পের আমির হোসেন (৪৫),থাইনখালী ১৩ নম্বর ক্যাম্পের মো. জীবন (১৯) ও জামতলী ১৫ নম্বর ক্যাম্পের জান্নাত আরা (১৭) রয়েছেন। অন্য ছয়জন হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীর আব্দুল খালেক (২৯) ও ফয়সল করিম (১৬), চকরিয়ার মানিকপুরের আরিফুল ইসলাম (২১) ও আহমদ নবী (২৩), মহেশখালীর নুরুল ইসলাম (২২) এবং উখিয়ার হলদিয়াপালংয়ের জাহিদ আলম (১৮)।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মানব পাচার ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজিবি জানায়, উদ্ধার হওয়া নয়জনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন