কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে পরকীয়ায় বাঁধা পেয়ে এক যুবকের হাত কেটে নিয়েছে এলাকার এক লম্পট আরেক যুবক। আহত যুবককে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রোববার ভোররাতে ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ড পূর্ব ভোমরিয়া ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
আহত দিদারুল ইসলাম (২৮) পূর্ব ভোমরিয়া ঘোনা এলাকার হাজী জাফর আলমের ছেলে। আর ঘাতক কামাল হোসেন (২৫) একই এলাকার আমির সুলতানের ছেলে। তাকে জনতার সহযোগিতায় আটক করেছে পুলিশ।
আহত যুবকের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, আটক কামাল হোসেন জনৈক নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রায় সময় ঐ নারীর বসত ঘরে রাতের বেলায় কামালকে দেখত প্রতিবেশীরা। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার তাকে ধরেছিল প্রতিবেশী দিদারুল ইসলামসহ এলাকার লোকজন। এ বিষয় নিয়ে স্থানীয় ভাবে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বৈঠকেও বসে। সেখানে সমাজ সর্দারসহ স্থানীয় মেম্বারও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কামাল রাতের বেলা ঐ নারীর বাড়িতে আর যাবে না মর্মে অঙ্গিকারনামা দেন। এরপরও রোববার ভোররাতে ঐ বাড়িতে যায় লম্পট কামাল।
পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় রাতের বেলা আসা কামালকে চোর মনে করে দিদারুল ইসলাম তাকে তাড়াতে এগিয়ে যাবার সাথে সাথে সাথে নিয়ে যাওয়া ধারালো দা দিয়ে দিদারের মাথায় কোপ দেয় কামাল। হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করায় বাম হাতটি কেটে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
এ সময় তার শোর চিৎকারে অপরাপর লোকজন এগিয়ে এলে ঘাতক কামাল হোসেন পালিয়ে যায়। দিদারকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানেও অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রোববার দিনগত রাতে।
এদিকে, ঘটনা জানাজানি হবার ১১ ঘন্টা পর তার নিজ বাড়ীর পিছনে এক নিকট আত্বীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে কামাল। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ফোন করে অবহিত করেন। পরে ওসি আসাদুজ্জামানের নির্দেশে এএসআই মহি উদ্দীন ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে কামালকে আটক করে।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহত দিদারকে নিয়ে হাসপাতালে রয়েছি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন চিকিৎসক।
ঈদগাাঁও পুুুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে ঘাতককে আটক করা হয়েছে। একমাত্র আসামী হিসেবে তাকে শনাক্ত করেছে এলাকার লোকজন। আহত যুবক চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারকে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












