টানা বর্ষণ, জলাবদ্ধতা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সামনে জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে শিক্ষাবোর্ড এলাকার সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো— দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো একটি অঞ্চলের জন্য নয়; দেশের সব এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় অনেক জেলার পরীক্ষার্থীর পক্ষে নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের নতুন করে পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। দুর্যোগের কারণে অনুপস্থিতির দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কোথাও যানজট, কোথাও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন।
সমাবেশে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার বিরোধিতা করছি না। আমরা চাই দুর্যোগের সময়ে দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া হলে অনেকেই অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
বিক্ষোভ মিছিলে ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভে শিক্ষামন্ত্রী মিলনের পদত্যাগ দাবি করা হয়। বিক্ষোভ শেষে দাবি পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।














