চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষের রেলযাত্রা সহজ করতে কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি উঠেছে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের স্টপেজ না থাকায় চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার যাত্রীদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ ঘুরে কক্সবাজার রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন চকরিয়া। মাতামুহুরী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী এবং বান্দরবানের লামা-আলীকদম এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ স্টেশন ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানে স্টেশনটিতে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি থাকায় এসব এলাকার মানুষ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে চিকিৎসা, শিক্ষা এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ঢাকা অভিমুখী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি না থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চকরিয়া রেলস্টেশনের ওপর দিয়ে ঢাকাগামী ট্রেন চলাচল করলেও সেখানে ওঠার সুযোগ নেই। ফলে ঢাকা যেতে হলে আগে উল্টো পথে কক্সবাজারে যেতে হয়। এতে যাতায়াতের খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় চকরিয়া স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান বলেন, ‘চকরিয়া থেকে ঢাকা যেতে হলে আগে কক্সবাজার গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। এতে সময় ও টাকা— দুটোই বেশি খরচ হয়। চকরিয়া স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা ফজল করিম বলেন, ‘চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও মহেশখালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল। অথচ ঢাকায় যেতে হলে অনেকটা পথ ঘুরতে হচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই দাবি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’
চকরিয়ার গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী মো. সাঈদী আকবর ফয়সাল বলেন, ‘জনস্বার্থে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো রেলপথ উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছিলেন তিনি। এর কিছুদিন পর বিষয়টি নিয়ে মতামত যাচাইয়ের জন্য রেলপথ অধিদপ্তর একটি পরিপত্র প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় রেলপথ মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপদ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে মানুষ রেলপথকে বেছে নেয়। সম্প্রতি মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো বলেন, ‘চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার যাত্রীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে রেল যোগাযোগের সুবিধা আরও বাড়বে। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন, ‘চকরিয়া থেকে রেলপথে ঢাকা যেতে চাইলে যাত্রীদের আগে উল্টো দিকে কক্সবাজার যেতে হয়। যে ট্রেন চকরিয়া স্টেশনের ওপর দিয়েই চলাচল করে, সেই ট্রেনে উঠতে অন্য শহরে যাওয়ার বিষয়টি ভোগান্তিকর।’ তিনি চকরিয়া স্টেশনে পর্যটক এক্সপ্রেস ও মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, ‘চকরিয়া রেলস্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই, বিষয়টি ঠিক। তবে সম্প্রতি চালু করা মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়ে যাত্রী চাহিদা, স্টেশনের গুরুত্ব ও পরিচালনাগত বিষয়গুলো বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চকরিয়া রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে প্রায় ২০ লাখ মানুষের রেলযাত্রা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ আরও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।














