কক্সবাজারে ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনার তালিকা। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও। মুহুর্তের দূর্ঘটনায় জীবন ও সম্পদহানির পাশাপাশি অঙ্গহানির কবলে পড়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এতে ভোগছে পরিবার পরিজন। সোমবারও টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের রামুর খুনিয়াপালংয়ে কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন আরো তিনজন। নানা প্রচেষ্টাতেও কমছে না দুর্ঘটনা।
তবে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চালকদের রিফ্রেশার ট্রেনিং এবং পথচলতে ও গাড়ি চালাতে করণীয় জানাতে স্কুলে নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা প্রোগ্রাম করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কক্সবাজার কার্যালয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চালকদের নিয়ে জেলা পরিষদ হলরুমে ট্রেনিং এবং সোমবার (২৭ জুলাই) কক্সবাজার সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা সভা করা হয়েছে। এতে ৭০ জন পেশাদার চালক ও ১০৪ জন শিক্ষার্থী সচেতনতার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে পেশাদার চালকদের কর্মশালার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রিফ্রেশার ট্রেনিং প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়। বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের নির্দেশনা ও পরিচালক (ইঞ্জি:)’র তত্বাবধানে কক্সবাজার সার্কেল কর্তৃক জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণে নিরাপদ সড়কের গুরুত্ব, সড়ক দূর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণে- শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ-পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা।
আর গাড়ি চালানোর সময় সিটবেল্ট ও মোবাইল ফোন ব্যবহার বিধি এবং লাইসেন্স, ফিটনেস্ল, ট্যাক্স টোকেন নবায়ন সম্পর্কে আলোচনা করেন বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান।
ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং নিয়ে আলোচনা করেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জানে আলম। এছাড়াও মোটরযান চালকদের পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যঝূঁকি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডা. প্রিয়াংকা দত্ত।
পাশাপাশি চালকেদর মোটরযান চালনা ও যান্ত্রিক জ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা করেন সহকারী মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ ইউছুফ।
বিআরটিএ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান আরো জানান, পেশাদার চালকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে “মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি”-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার কক্সবাজার সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে সড়ক নিরাপত্তা বিষয় সচেতনতা সভা করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষকের সমন্বয়ে করা সভায় বক্তব্য রাখেন বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জানে আলম, সহকারী মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ ইউছুফ এবং স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মুতি ফখরুদ্দিন।
আলোচনায়, কিভাবে রাস্তা পারাপার হবে, যাত্রী হিসেবে, চালক হিসেবে এবং পথচারী হিসেবে করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। এছাড়াও সড়ক কিভাবে নিরাপদ করে দূর্ঘটনা হ্রাস করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
শিক্ষার্থী আলী মুর্তুজা হাসানসহ একাধিক শিক্ষার্থী অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে জানায়, দূর্ঘটনা রোধে পথচারি হিসেবে আমাদেরও বিশেষ করণীয় রয়েছে- তা বিআরটিএ’র এ সভায় না থাকলে জানতে পারতাম না। দ্রুত আসতে গিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে তাড়াহুড়ায় আমরা সড়ক পার হই। খেয়াল রাখি না, যে গাড়ির সামনে দিয়ে পার হচ্ছি তার ব্রেক সঠিক নাও থাকতে পারে। স্লো করতে ব্যর্থ হলে মূহুর্তে দূর্ঘটনায় জীবনহানি হওয়ায় সম্ভাবনা শতভাগ। এখন জেনেছি, বাইরে পরিচিত জন এবং সুযোগ পেলে এলাকায় এসব বিষয়ে জানাবো।
আলোচনা শেষাংশে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে সড়ক আইন ও ট্রাফিক সাইন সম্পর্কিত লিফলেট, প্রসপেক্টাস বিতরণ করা হয়। এসব প্রোগ্রাম একেক এলাকার একেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং চালক সমিতিতে নিয়মিত করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলে জানান বিআরটিএ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।














