কক্সবাজারের নিভৃতচারী সৎ সাহসী ও নির্ভীক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, লেখক ও সমুদ্র পরিবেশবিষয়ক গবেষক আহমদ গিয়াস ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ কলাতলী দরিয়ানগর এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা পান করার সময় হঠাৎ ঢলে পড়ে যান। সেখান থেকে দ্রুত তুলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও দু ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আহমদ গিয়াস কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া গ্রামের রশিদ আহমেদের ছেলে। তিনি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন।
আহমদ গিয়াসের ছেলে আবরার জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দরিয়ানগরস্থ বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন বাবা। এসময় হঠাৎ ঢলে পড়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দরিয়ানগর এলাকায় তার প্রথম জানাজা এবং মাগরিবের আগে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে চকরিয়ার খুটাখালী কেন্দ্রীয় জামিয়া মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সাংবাদিক আহমেদ গিয়াস ছিলেন একজন নির্লোভ আর নিভৃতচারি সাংবাদিক। তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত চট্টগ্রামের প্রাচীন পত্রিকা দৈনিক আজাদীর কক্সবাজারস্থ স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি দৈনিক ইত্তেফাক, যায়যায়দিন পত্রিকাসহ একাধিক জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্বপালন করেন।
সমুদ্রের বালুচর, বালুচরের সাগরলতা, সামুদ্রিক বর্জ্য, পাহাড়-পর্বত, পাখি আর বানরের জীবন যাপন নিয়ে গবেষণাধর্মী অসংখ্য রিপোর্ট করে তিনি পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত হন।
বড়ই অভাব অনটন নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন সাংবাদিক আহমদ গিয়াস। কলাতলি দরিয়ানগরে একটি ছড়ার তীরে জীর্ণ শীর্ণ ঘরে থাকতেন তিনি। কক্সবাজারের বিদায়ী একজন জেলা প্রশাসক তাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিতেও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকদের একটি পক্ষের বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই ঘর আলোর মুখ দেখেনি।
তার মৃত্যুতে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, কক্সবাজার আইনজীবী সমিতি, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন, কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটি, ট্যুরিজম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার, কক্সবাজার নাগরিক ফোরাম, জেলা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক আহমেদ গিয়াসের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।














