বাংলাধারা ডেস্ক »
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে আজ শনিবার (৩ আগস্ট) গরু বোঝাই কোনো ট্রলার মিয়ানমার থেকে টেকনাফে আসেনি।
বৈরি আবহাওয়া কারণে কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর গত ৫ দিনে ৩৭টি ট্রলারে ৬ হাজার ২১৮টি গবাদি পশু আমদানি করা হয়েছে। এর মাঝে ৪ হাজার ৩৪৮টি গরু ও ১ হাজার ৮৭০টি মহিষ। তবে গত জুলাই মাসে এ করিডোর দিয়ে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৭৪৪টি গরু ও ৩ হাজার ৩৫১টি মহিষ। আর গত ১ ও ২ আগস্ট দু’দিনে ২ হাজার ১২টি গরু এবং ৬১০টি মহিষ আমদানি করা হয়েছে।
টেকনাফ শুল্ক বিভাগ সূত্র জানায়, ২০০৩ সালের ২৫ মে টেকনাফের সাবরাংয়ের শাহপরীর দ্বীপ নাফ নদীর পার্শ্বে একটি ক্যাডল করিডোর চালু করে। প্রতি গরু-মহিষ থেকে ৫শ ও ছাগল ২শ টাকা হারে রাজস্ব আদায় করা হয়। গত ৫ দিনের ৩২টি ট্রলারে প্রায় ৫ হাজার ২১৮টি গবাদি পশু আমদানি করা হয়েছে। এর মাঝে ৩ হাজার ৮৪৮টি গরু ও ১ হাজার ৩৭০টি মহিষ। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ ৯ হাজার টাকা।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা মেটাতে এবারও মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু আমদানির পরিকল্পনা নেয়ার কথা জানিয়েছেন গরু ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম, আবু ছৈয়দ মেম্বার , আবুদু শুকুর, মো. সোহেল, জুবাইরসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী। তরা জানান, ২০-২৫ হাজার গবাদিপশু মিয়ানমার থেকে আমদানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
টেকনাফের শুল্ক কর্মকর্তা মো. ময়েজ উদ্দীন বলেন, এ করিডোর রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। আবহাওয়া বৈরি হওয়ায় গত কয়েকদিন পশু আমদানি বন্ধ থাকার পর সোমবার থেকে পশু আসা শুরু হয়েছে। গত একমাসে এ করিডোর দিয়ে পশু আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫০ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়াও গত দু’দিনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা। গরু আমদানির সঙ্গে বাড়ছে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও।

টেকনাফ গরু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পৌর কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ মনির জানান, বৈরি আবহাওয়ার পর মিয়ানমার থেকে আবার পুরোদমে গরু আমদানি শুরু হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে কোরবানির আগ পর্যন্ত আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার গরু আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
করিডর ভিত্তিক গরু ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম জানান, বৈরি আবহাওয়া কারণে কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর গত ৪দিনে প্রায় এক হাজার ৭০টি গবাদিপশু মিয়ানমার থেকে আমদানি করেছি। ঈদে গরু চাহিদা থাকায় দামও ভাল পেয়েছি। আমার ট্রলার থেকে বড় ৪টি গরু বিক্রি করা হয় ১০ লাখ টাকা দিয়ে। এখন লক্ষ্য কোরবানির ঈদের চাহিদা পূরণ করা। গবাদি পশু আমদানি এবং ক্রয়-বিক্রয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি এবং কোথাও কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। এই ভাবে আমদানি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাজারে এবারের কোরবানে পশুর সংকট হবে না বলে মনে করি।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম












