বাংলাধারা প্রতিবেদন »
ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে এডিস মশা নিধন এবং এর জন্ম-বিস্তার রোধে চট্টগ্রামে দিনব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে।
আগামী বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সমগ্র চট্টগ্রাম জুড়ে এই ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোধে জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিধন বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের অংশগ্রহণে সমন্বয় সভায় ক্রাশ প্রোগ্রামের ঘোষণা দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান। সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ডেঙ্গু নিয়ে মানুষ এখন অনেক সচেতন।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন সমগ্র নগরীতে ডেঙ্গু মশামুক্ত করতে রাত-দিন কাজ করছে। এ জন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতা দরকার। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে এডিস মশা জন্মাতে পারবে না।
আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরজুড়ে এডিস মশার বিরুদ্ধে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়ে সিটি মেয়র বলেন, ‘‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তিন হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নকর্মী রাতে বর্জ্য অপসারণের কাজ করেন। তারা আগামী বৃহস্পতিবার সবাই একযোগে দিনে কাজ করবেন। এর সঙ্গে যদি সাধারণ নাগরিকরা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সবাই হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে আসে তবে আমরা এডিস মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হবো।’’
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, ‘‘বিশ্বের অনেক দেশ দুর্যোগ মোকাবেলার পদ্ধতি বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখে। দ্রুততার সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও আমরা মোকাবেলা করতে পারবো। আমরা দিন-রাত আন্তরিকতার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। একই সময়ে একযোগে সবাই কাজ করতে হবে।’’
সভায় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম ফারুক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে যারা ব্যবসা করছে, ৫০০ টাকার ফি হাজার টাকা নিচ্ছে, ১২৫ টাকার ক্রিম ৫০০ টাকা নিচ্ছে- ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের জরিমানা করতে হবে। নগরীর কারো বাসা-বাড়িতে স্বচ্ছ পানি জমলে, অপরিষ্কার করলে তাদেরও জরিমানা করতে হবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মতামত ব্যক্ত করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, মো. নুরুল আলম নিজামী, স্থানীয় সরকার পরিচালক দীপক চক্রবর্তী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, সিএমপির ডিসি শ্যামল কুমার নাথ, পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা প্রমুখ।
নগরীর বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম












