৭ মার্চ ২০২৬

চবির চার হলে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

চবি প্রতিনিধি »

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দু’পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর সন্দেহের ভিত্তিতে চারটি আবাসিক হলে তল্লাশী চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ বস্তা পাথর উদ্ধার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষ এড়াতে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

গতকাল শনিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী, শহীদ আব্দুর রব, শাহজালাল ও শাহ আমানত চারটি হলে তল্লাশি চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিশেষ এ তল্লাশী অভিযান চালানো হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চট্টগ্রাম উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা বলেন, ‘গতকালের সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে কয়েকটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এসময় হাতে তৈরি কিছু অস্ত্র, দা এবং চার বস্তা পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।’

এর আগে গত ২৮ (বৃহস্পতিবার) রাত ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুর রব হলে মিটিংয়ে বসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন হলের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

২৯ নভেম্বর (শুক্রবার) রাত ১১টার দিকে পুনরায় সংঘর্ষের জড়ায় দুটি পক্ষ। এদিন থেমে থেমে একাধিক হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুইদিনে ছাত্রলীগের দুই দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১০ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন।

বিবদমান পক্ষ দুটি হলো শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী সিএফসি ও সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুলের অনুসারী ভিএক্স। এদের মধ্যে সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ও ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীরা নগরীর সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেল বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার পর আমরা বিষয়টি সমাধান করলেও পুনরায় তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শুক্রবার রাতে হামলা চালায়। আমাদের কর্মীরা সেটা প্রতিহত করে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। ভিএক্স গ্রুপের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দূর্জয় বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেল আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিল আর কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু তারপরেও তারা আমাদের কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এতে আমাদের ৫ জনকে আহত হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মনিরুল হাসান বলেন, ‘সন্দেহের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি হলে অভিযান চালানো হয়েছে। এতে কিছু লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেছে। রুমে কেউ না থাকায় কাউকে আটক করা যায়নি।’

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন