১৩ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে পোশাক শিল্পের বিরাজমান সংকট উত্তোরণে বিজিএমইএ’র প্রস্তাবনা

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সেবাকে অত্যাবশ্যকীয় ও জরুরি সেবা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেছেন, বন্দর কাস্টমস পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের ধর্মঘটের মাধ্যমে আমদানি রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত করার অপচেষ্টা বন্ধ করা প্রয়োজন।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের পোষাক মালিকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ আয়োজিত চট্টগ্রামে বিদেশী বিনিয়োগ আর্কষণসহ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট বিরজমান সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তবনা শীর্ষক এক মত বিনিময় সভা তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রণোদনার টাকা পরিশোধ করা শুরু করেছি। ওই টাকায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছিলাম।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট তৈরী পোষাক রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশই হতো চট্টগ্রম থেকে। তারপর থেকে চট্টগ্রামের অংশ অবনমন ঘটতে থাকে। বর্তমান বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে তৈরী পোষাক শিল্পে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক কারখানা। ক্রেতারা অর্ডার বাতিল/ স্থগিত হয়েছে চট্টগ্রাম পোষাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তনী আদেশ বাতিল/ স্থগিত হয়ে গেছে।

এ সব সমস্যা সমাধান এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বিজিএমইএ কর্মকর্তারা বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ব্রান্ডিং ছাড়া পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে। শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছি।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর ও আনোয়ারা ইকোনমিক জোনে পোশাক শিল্পের কারখানা স্থাপনে স্বল্পমূল্যে ভূমি বরাদ্দ, সহজ ও স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ দেওয়া, চট্টগ্রামে কিছু ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন, চট্টগ্রামস্থ আমদানি রফতানি নিয়ন্ত্রকের দফতর, বস্ত্র অধিদফতর, ইপিবি, বিনিয়োগ বোর্ড, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতায়ন, শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটি বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ৪ হাজার ৭০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২ হাজার ৭৩৪টি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ১ হাজার ৯৬৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ৬০০টি আমদানি-রফতানি কাজে নিয়োজিত আছে। চট্টগ্রামে ৬৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধ ৩৯৮টি, আমদানি রফতানি কাজে নিয়োজিত আছে ১৯০টি। করোনা পরিস্থিতিতে গত মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে ঢাকায় ২৮১টি ও চট্টগ্রামে ৩০টি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

এক দশক আগেও তৈরি পোশাক রফতানিতে চট্টগ্রামের ৪৯ শতাংশ অংশগ্রহণ থাকলেও গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

এমএ সালাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা দেওয়ায় আমরা করোনাকালে শ্রমিকদের বেতন দিতে পেরেছি। ভিয়েতনাম, ভারতের চেয়ে আমাদের সরকার পোশাকশিল্প নিয়ে অনেক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, বে-টার্মিনাল হলে তৈরি পোশাক শিল্পে বিপ্লব ঘটাবে।

এসএম আবু তৈয়ব বলেন, আমরা দুর্নীতি করতে চাই না। দুর্নীতির শিকারও হতে চাই না। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অটোমেশন চাই। পোশাক শিল্পে লুকানোর মতো কোনও জায়গা নেই। ইজি অব ডুয়িং বিজনেস চাই।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসিরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, সাহাবুদ্দিন আহমেদ, এসএম আবু তৈয়ব, সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, পরিচালক এমএ সালাম, এম আহসানুল হক, এএম শফিউল করিম খোকন, তানভীর হাবিব, মেরাজ ই মোস্তফা কায়সার, মো. হাসান জেকি প্রমুখ।

বাংলাধারা/এআই

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ