কক্সবাজার প্রতিনিধি »
পর্যটনের স্বার্থে আইসিইউ, সিসিইউ চালুসহ কক্সবাজার সদর হাসপাতলকে ২৫০ শয্যা থেকে দ্রুত ৫০০ শয্যায় উন্নতি করা হবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক স্বপন বলেছেন, দেশের প্রতিটি স্তরে সমস্যা আছে। সব সমস্যা রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে একটি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব। সমস্যা কাজের গতি কমিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেছেন।
কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন শহর উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ভ্রমন করতে প্রতি বছর কয়েক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। এখাত থেকে সরকার প্রচুর রাজস্ব আয় করে। তাই পর্যটকদের স্বাস্থ্য বিষয়ও আমাদের নজরে রাখতে হবে। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলে পর্যটকরা কক্সবাজারে আসবে না। তাই স্থানীয় জনগণ, আশ্রিতা রোহিঙ্গা এবং বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ উন্নত করার পাশাপাশি আইসিইউ, সিসিইউ চালু করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে আরো শয্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজার জেলায় স্বাস্থ্য সেবা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। চাপ বেড়েছে সাহপাতালে। সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসমস্যা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আধুনিক জরুরী বিভাগ চালু করা হয়েছে। এখানে ভাল আইসিইউ, সিসিইউ ওয়ার্ড করা হবে।
জেলা সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আমরা আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল দিচ্ছি। কিন্তু সেবা তো আপনাদের দিতে হবে। আপনারা যদি সেবা দিতে অনাগ্রহ দেখান, জনগণের সাথে দুর্ব্যহার করেন তবে, জনগণ সেবা বঞ্চিত হবে। এতে ক্ষুন্ন হবে সরকারের ভাবমূর্তি। সাধারণ মানুষ সরকারের সমালোচনা করবে। তাই সকলকে যথা সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরো বলেন, এখানে আপনারা সার্টিফিকেট অর্জন করবেন। যে যেমন কাজ করবেন তেমন সুনাম অর্জন করবেন। যা পরবর্তী আপনার জীবনে কাজে আসবে। আমরা যার যার অবস্থান থেকে যদি দায়িত্ব পালন করি তবে স্বাস্থ্যখাতে সেবার মান বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, কিডনি ডাইলোসিস আমার দেশের জন্য একটি বিশাল সমস্যা। এটি সমাধানে প্রতিটি জেলায় কিডনি ডাইলোসিসের ১০টি করে ইউনিট করা হবে।
এ সময় কক্সবাজার সদর রামু আসনের সাংসদ সায়মুম সরওয়ার কমল, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন-প্রধান (পরিকল্পনা) ডা. মহি উদ্দিন ওসমানি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার, কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন আব্দুল মতিন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সুভাষ চন্দ্র সাহা, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিন্টু কান্তি, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. মহি উদ্দিন, বিএমএ কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহিন আব্দুর রহমান, নোবেল কুমার বড়ুয়া প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












